2

 

নাসির উদ্দিন, গলাচিপা বিশেষ প্রতিনিধিঃ ছয় মাস না যেতেই গলাচিপা পৌরসভার উপ নির্বাচন। দিন যতই গড়াচ্ছে গলাচিপা পৌরসভার উপ নির্বাচন ততোই জমে উঠতে শুরু করেছে। আগামী ৬ মার্চ এ পৌরসভার উপ নির্বাচনে ১৪ হাজার ৬৬১ জন ভোটারের ভোট গ্রহনের নির্ধারিত তারিখ। এদিকে প্রতিদিন প্রার্থীরদের পক্ষে চলছে নানা ধরনের প্রচারনা। পোষ্টার, লিফলেট, ব্যনার, ফেষ্টুন ছাড়াও প্রতিদিন চলছে মাইকং, উঠান বৈঠক, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা। এ নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন অকাল প্রয়াত মেয়র হাজী আব্দুল ওহাব খলীফার একমাত্র পুত্র আহসানুল হক তুহিন, বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দলের একাশেংর সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন খান, গত নিবাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে মাঠে জোড়ালোভাবে ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

স্থানীয় নির্বাচন দফতর সূত্র জানায়, গত ৭ আগষ্ট এ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আবু তালেব মিয়াকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে আওয়ামী প্রার্থী হাজী আব্দুল ওহাব খলীফা বিজয়ী হন। শপথ গ্রহনের পর পৌর পরিষদের একটি সভার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে দেশ বিদেশে চিকিৎসার পর ৮ নভেম্বর মৃত্যুবরন করেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় এ পৌরসভার মেয়র পদ শুন্য ঘোষনা শেষে নির্বাচন কমিশন গত ৮ ফেব্রুয়ারি মেয়র পদে মনোনয়ন দাখিলে শেষ দিন নির্ধার করেন। প্রয়াত মেয়র হাজী আব্দুল ওহাব খলীফার বিগত দিনের আচার আচরন ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার ছেলে আহসানুল হক তুহিনকে পৌর আওয়ামী লীগ কাউন্সিলরার সর্বোচ্চ প্রদান করেন। এর ধারাবাহিকতায় দলীয় প্রক্রিয়া শেষে সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহসানুল হক তুহিনকে মনোনয়ন দান করেন। বাবার যোগ্য উত্তরসূরী হিসাবে আওয়ামী ঘরানার ভোটাররা ছাড়াও দলমত নির্বিশেষে সাধারন ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহনযোগ্যতা বেশ উর্ধ্বমুখী বলে সকল শ্রেনীর মানুষদের সাথে আলাপ করে এ প্রতিক্রিয়া জানা গেছে। সাবেক শিক্ষক মনিন্দ্র চন্দ্র পাল জানান, হাজী আব্দুল ওহাব  খলীফা মেয়র থাকাকালে ব্যবসায়ীসহ সাধারন মানূষ চাঁদাবাজি, ক্যাডার মাস্তানদের হাতে লাঞ্ছিত হনননি। সালিস বিচারে কেউ অন্যায় আচরন তার কাছ থেকে পায়নি। এ কারনে তার অকাল মৃত্যুতে মানুষের সহানুভূতি তার ছেলের পক্ষে যাবে। এছাড়া তার ছেলে তুহিনও আচার আচরনে অত্যন্ত ন¤্র ভদ্র।  এ কারনে সিংহভাগ ভোটার তাকেই তাদের মূল্যবান ভোট দেবেন বলে তিনি আশা করেন।

এদিকে গতটিসহ ৪টি নির্বাচনে সাবেক পৌর চেয়ারম্যান প্রবীন বিএনপি নেতা আবু তালেব মিয়া দলের পক্ষ হয়ে নির্বাচনে লড়েছেন। দীর্ঘদিন পৌরসহ স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় দলীয় ছাড়াও তার একটি নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে দলের মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খানকে। পৌরসভায় ভোটারদের মধ্যে দলীয় ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে তিনি খুব একটা প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবেন না বলে ত্রিধা বিভক্ত বিএনপি প্রবীন নেতা সোহরাব মিয়া এ ধারনা পোষন  করেছেন। তিনি আরও বলেন, আবু তালেব মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্র্থী হিসাবে নির্বাচন ভোটাররা তাকে বিএনপি’র প্রার্থী হিসাবেই মনে করছেন। এতে আওয়ামী লীগের একের বিপরীতে পরোক্ষভাবে বিএনপি’র দুইজন প্রার্ধী নির্বাচনে লড়ছেন। এছাড়া আবু তালেব মিয়ার ছেলে উপজেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জান সবুজ জানান, দলের কঠিন সময়ে তার পিতা পৌরসভা নির্বাচনে ৪ বার বিএনপি’র হয়ে লড়েছেন। ভোটাররা তাকে ভোট দিলেও দলের অভ্যন্তরীন ও আওয়ামী লীগের ক্যু’র কারনে তাকে পরাজিত হতে হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবারেও জনগন তার পিতাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।