পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নতুন রেট শিডিউল প্রকাশ ও প্রযোজ্য বিধিমালা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলায় আহ্বান করা কয়েকটি দরপত্র স্থগিত অথবা বাতিলের দাবি জানিয়েছে পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। এ দাবির পক্ষে ঠিকাদারদের স্বার্থ ও নির্মাণসামগ্রীর বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে পুরোনো রেটের অসামঞ্জস্যের বিষয়টি তুলে ধরে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা ঠিকাদার মালিক সমিতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, পটুয়াখালীর পক্ষ থেকে এ আবেদন করা হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা থেকে গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারিকৃত নির্দেশনায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর আওতায় বিধিমালা প্রণয়ন এবং নতুন রেট শিডিউল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রের জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত কার্য, সেবা ও পণ্য সরবরাহসংক্রান্ত দরপত্র আহ্বান ও ক্রয়প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
তবে ওই নির্দেশনার পরও এলজিইডি পটুয়াখালী কার্যালয় থেকে গত ২৬ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে পৃথক স্মারকের মাধ্যমে LTM পদ্ধতিতে বিভিন্ন সড়ক মেরামতের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়।
আবেদনকারীদের দাবি, আহ্বান করা দরপত্রগুলোর প্রাক্কলন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রাস্তা মেরামতের নামে দরপত্র আহ্বান করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাস্তার সম্পূর্ণ অংশে কার্পেটিং ও সিলকোটের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে বাস্তবসম্মতভাবে কমপক্ষে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি এসব কাজকে জরুরি কাজ হিসেবে বিবেচনা করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
আবেদনে আরও বলা হয়, নতুন রেট শিডিউল প্রকাশের আগে পুরোনো রেটে কাজ গ্রহণ করলে নির্মাণসামগ্রীর বর্তমান বাজারমূল্য ও কাজের প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে দরপত্রের মূল্য সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় ঠিকাদাররা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে উদীয়মান ঠিকাদারদের ব্যবসায়িক স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় জনস্বার্থ ও ঠিকাদারদের স্বার্থ বিবেচনায় পটুয়াখালী জেলায় উল্লিখিত স্মারকের আওতায় আহ্বান করা দরপত্রগুলো নতুন রেট শিডিউল প্রকাশ এবং প্রযোজ্য বিধিমালা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত অথবা বিধি মোতাবেক বাতিলের জন্য এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
আবেদনকারীরা আশা প্রকাশ করেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।




