Thursday, August 13, 2026
Thursday, August 13, 2026

কোদালের আঘাতে স্বস্তির স্বপ্ন: খাল খননে বদলে যাবে পটুয়াখালীর জনজীবন ইউনিয়ন পর্যায়ে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

 

স্টাফ রিপোর্টার, পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, পানি নিষ্কাশন সংকট ও কৃষি অনিশ্চয়তা দূর করার লক্ষ্য নিয়ে বৃহৎ খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নে প্রায় তিন কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) সকালে জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্ব) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জুয়েল রানা চন্ডিপুর ন্যাপ্তি বাড়ি সুইজ থেকে দক্ষিণে ধরান্দি ডিগ্রি কলেজ হয়ে মাঝি বাড়ি অতিক্রম করে ইসলামিয়া নুরানি মাদ্রাসা পর্যন্ত খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, খাল খনন কার্যক্রম পটুয়াখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জলাবদ্ধতা নিরসন, পানিনিষ্কাশন উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পের আওতায় খাল খননে নিয়োজিত শ্রমিকদের মজুরি সরাসরি তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হবে। এতে কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা হয়রানির সুযোগ থাকবে না এবং শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করা হবে।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার ৩০১ টাকা। উপজেলা প্রশাসন, পটুয়াখালী সদর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে, যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদ।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ধরনের প্রকল্প একদিকে মানুষের দুর্ভোগ কমাবে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওজাতুন জান্নাত জানান, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এইচ এম মাহবুব হোসেন বলেন, খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে।

কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মৃধা বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে কাজটি শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

স্থানীয় কৃষক ফারুক মৃধা জানান, আগে বর্ষায় জমি পানিতে তলিয়ে যেত এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে চাষাবাদ ব্যাহত হতো। খাল পুনঃখনন হলে এই দুই সমস্যারই সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হোসনে আরা বেগম বলেন, জলাবদ্ধতায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতো, এখন কাজটি শেষ হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো কাজ সম্পন্ন হলে এ প্রকল্প পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।