test
Thursday, June 13, 2024
Thursday, June 13, 2024

মাদ্রাসার অধ্যক্ষের নির্যাতনের শিকার সহকারী অধ্যাপক

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালী সদর উপজেলাধীন পূর্ব বাদুড়া আলিম মাদরাসার প্রিন্সিপাল নাজিম উদ্দিন মাওলানার হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫)। রোববার (১৯মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। এসময় প্রিন্সিপাল নাজিম ও তার সহযোগী একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক জাহিদ হোসেন, শামীম সিকদার ও রাসেল একত্রে হামলা চালায় সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীরের উপর।

হামলার শিকার পূর্ব বাদুড়া আলিম মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বেশ কিছুদিন আগে থেকেই আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল বিভিন্ন ভাবে আমাকে দিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করে আসছে। আমি স্বাক্ষর দিতে অস্বীকার করলে আজ আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মিলনায়তনের মধ্যে সব শিক্ষদের সামনে হঠাৎ করেই তার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে এলোপাথাড়ি হামলা চালায়। আমাকে তারা মারতে মারতে চেয়ার টেবিলের নিচে ঢুকিয়ে ফেলে। এক পর্যায় আমি অজ্ঞান হারাই। যখন আমার জ্ঞান ফেরে তখন দেখি আমি হাসপাতালে ভর্তি। এর আগেও অনেক বার প্রিন্সিপাল আমাকে হুমকি ধামকি দিয়েছেন। এমনকি আমার প্রান নাশের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির সহকারী মোলভী ও প্রত্যক্ষদর্শীর মোঃ আবুল কাশেম বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে আজকে একটি ব্লাঙ্ক রেজুলেশনে স্বাক্ষর দেয়া নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। আমাদের প্রিন্সিপাল সবাইকে ব্লাঙ্ক রেজুলেশনে স্বাক্ষর দিতে বলে, তখন আমরা সেটাতে রাজি হই না। এ ঘটনা প্রিন্সিপাল হঠাৎ করেই আমাদের সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর স্যারকে চর থাপ্পড় দিতে শুরু করে। পরে তার সাথের আরো কয়েকজন এসে জাহাঙ্গীর স্যারের উপর হামলা চালায়। এর আগে আমার সাথেও টাকা পয়সা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে প্রিন্সিপালের সাথে তখনও তার এই বাহিনীর লোকজন আমাকে অপদস্থ করেছিল। এসময় আমাদের বাংলা বিভাগের প্রভাষক বিজলিস জাহান, মহিবুল্লাহ স্যার, রিয়াজ স্যার সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী ও বড় আউয়ালিয়াপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রাশিদা বেগম জানান, তার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে তার কাছে ফোন আসে যে, তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পরেছে। এ বিষয়টি তিনি তার নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হারুনার রশিদকে জানালে তিনি তার স্বামীর প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপালকে ফোন করেন। তখন তার স্বামী জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল নাজিম উদ্দিন মাওলানা বলেন, জাহাঙ্গীরের কিছু হয়নি তিনি সুস্থ আছেন। এরপরেও রাশিদা বেগম তার স্বামীর প্রতিষ্ঠানে যান। তিনি সেখানে গিয়ে তার স্বামীকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পান। পরে অ্যাম্বুলেন্স খবর দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এ ঘটনা তিনি পুলিশকে অবহিত করেছেন ও তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল নাজিম উদ্দিন মাওলানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দুই বার ফোন রিসিভ করে কেটে দেন ও পরবর্তীতে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি সভাপতি হুমায়ুন কবির জানান, যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে  সকল প্রকার আইনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মোঃ জসিম বলেন, এমন কোন অভিযোগ এসেছে কি-না আমি বলতে পারবো না। আমি বাহিরে ছিলাম।

পূর্ব বাদুড়া আলিম মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও আউলিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাওলানার বিরুদ্ধে এ ঘটনা ছাড়াও রয়েছে নানা অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের শান্তি সমাবেশে হামলা ও রায়হান নামের এক ব্যাক্তিকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগে পটুয়াখালী সদর থানায় ২০২৩ সালের ২১ মে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়াও ২০২২ সালের ০৫ আগস্ট বাদুড়া এলাকার তাইন সিকদার নামের এক ব্যক্তিকে মারধর ও তার থেকে নব্বই হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় এজাহার ভুক্ত আসামি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments